Super Life Hackলাইফ হ্যাক 

চাই বা না চাই প্রেজেন্টেশন কিন্তু দিতেই হয়

প্রেজেন্টেশন! এই শব্দটি শুনলেই  অনেকেরই গলা শুকিয়ে যায়, পা কাঁপতে থাকে, হাত ঘামতে থাকে। এক কথায় নার্ভাস হয়ে পড়েন। চাই বা না চাই , ভাল লাগুক বা না লাগুক প্রেজেন্টেশন সবাইকেই দিতেই হয়। তাই সহজ কিছু কৌশল্ ব্যবহার করলে প্রেজেন্টেশেন অনেক ভাল করা সম্ভব।

প্রেজেন্টেশনের শুরুঃ যদি সময় ধরে নেই তাহলে দেখা যায় যে শুরুর এক বা দুই মিনিট দর্শকের আগ্রহ নতুন প্রেজেন্টারের প্রতি অনেক বেশি থাকে। তাই প্রথম এক বা দুই মিনিট যদি গ্রুপ মেম্বারদের পরিচয় বা নিজের পরিচয় দিয়ে নষ্ট না করে কোন গল্প , উক্তি অথবা  কোন নতুন অজানা তথ্য দিয়ে শুরু করা যায় তবে দর্শক অনেক উৎসাহিত হবে পাশাপাশি প্রেজেন্টেশনে আগ্রহও পাবে।

মুভমেন্টঃ প্রেজেন্টেশনে মুভমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। একটি রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি যোগাযোগ হয় মুভমেন্টের মাধ্যমে। প্রেজেন্টেশনে সবসময় সোজা হয়ে দাঁড়ানো উচিৎ, শুধু মাত্র প্রয়োজনে, হাত নাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া যদি বড় কোন অডিটোরিয়াম বা গ্যালারী হয় তবে হালকা মুভমেন্ট করা উচিৎ কিন্তু তা অবশ্যই দ্রুত নয়।এটি একটি নতুন মাত্রা আনে প্রেজেন্টেশনে।

ট্রাঞ্জিশনঃ  সাধারনত ইউনিভার্সিটিতে গ্রুপে প্রেজেন্টেশন হয়ে থাকে। একজন বক্তার পরে আরেকজন বক্তার আশাকে স্পীকার ট্রাঞ্জিশন বলে। অনেকে দেখা যায় খুব জোরে আবার অনেকে খুব আস্তে কথা বলে তাই কন্ঠের সামঞ্জস্য রেখে মেম্বারদের সাজানো উচিৎ যেন প্রেজেন্টেশন শ্রুতিমধুর হয়।

আই কন্ট্যাক্ট করাঃ যেকোনো ভাল প্রেজেন্টেশনে আই কন্ট্যাক্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা অনেকেই করতে ব্যর্থ হন। তাই এই সমস্যা দূর করার জন্য প্রেজেন্টেশন রুমের দুই বা চার কোনায়  বন্ধুদের বসিয়ে দিতে পারেন যার ফলে, যখন তাদের দিকে তাকিয়ে বার বার কথা বলবেন তখন সম্পূর্ণ রুম কাভার হবে। অথবা যদি কোন হল রুম হয় যেখানে সবাই অপরিচিত সেখানে দুই থেকে চারটা পয়েন্ট বা জায়গা সিলেক্ট করে রেখে সেদিকে তাকিয়ে কথা বলেও সম্পূর্ণ হল রুম কাভার হবে।

প্রেজেন্টেশেন পাওয়ার পয়েন্টঃ  অনেক সময় প্রেজেন্টেশনে এক স্লাইড থেকে অনেক পরের স্লাইডে যেতে হয় তখন অনবরত কিবোর্ড না চেপে যেই স্লাইডে যেতে হবে সেই স্লাইডের নাম্বার প্রেস করে এন্টার দিলে সেই স্লাইডে চলে যাওয়া যায়। তাছাড়া প্রেজেন্টেশনে অতিরিক্ত বুলেট পয়েন্ট বা বড় বড় লাইন না লিখে ছবি, ইনফোগ্রাফ, এরো, কিওয়ার্ড ব্যবহার করা। এতে স্লাইডের আকর্ষণীয়তা বেড়ে যায়।

ডাটা উপস্থাপন করাঃ প্রেজেন্টেশনে প্রচুর নাম্বার, চার্ট, ডাটা দিতে হয়। কিন্তু  কখনও কি ভেবে দেখেছেন, যে দর্শকরা কখনও সেই ডাটা পর্যবেক্ষণ করেন কি না? বা সেই সময় তাদের আছে কি না? নেই। কারণ এই জিনিসগুলো কেউ পছন্দ করে না। তাই দর্শকরা সবসময় এমন কিছু চায় যা তাদের কাছে পরিচিত। যেমনঃ যখন প্রথমবারের মত আই পড লঞ্চ হয় তখন স্টিভ জবস বলেননি  যে আই পডে ৫জিবি জায়গা আছে কারণ কেউই কখনও ৫জিবি জায়গা দেখিনি বরং তিনি বলেছিলেন এতে ১০০০ গান রাখা যাবে যা মানুষ এখনও  মনে রেখেছে।

টেকনিক্যাল সমস্যাঃ প্রেজেন্টেশনের খুবই পরিচিত একটি সমস্যা হল টেকনিক্যাল সমস্যা। অনেক সময় পেন্ড্রাইভ কাজ করে না, কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়, স্লাইড বন্ধ হয়ে যায়।এ অবস্থায় সাধারণত অনেকেই যা করে,প্রেজেন্টেশন বাদ দিয়ে কি সমস্যা হল স্লাইড কেন বন্ধ হল? পেন্ড্রাইভ কেন কাজ করছে না? কম্পিউটার কেন বন্ধ হল তা দেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে। এমন করলে, প্রেজেন্টেশনের ফ্লো নষ্ট হয়, সময় নষ্ট হয় সবচেয়ে বড় যে বিষয় তা হল দর্শক বিরক্ত হয়।  বরং তা না করে যদি প্রেজেন্টেশনটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে ফ্লো ঠিক থাকবে এবং প্রেজেন্টারের কনফিডেন্সও দর্শকের কাছে ফুটে উঠবে।

প্রেজেন্টেশনের শেষঃ কথায় আছে সব ভাল তার শেষ ভাল যার।  তাই শুরুটার সাথে সাথে প্রেজেন্টেশনের শেষ সুন্দর হওয়াটাও অনেক জরুরি। কারণ প্রেজেন্টেশনের শুরু এবং শেষের দিকে সবাই দেখে। তাই প্রেজেন্টেশন সবসময় “ধন্যবাদ” বা “থ্যাংক ইউ” দিয়ে শেষ না করে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, দ্রুত রিক্যাপ বা  প্রেজেন্টেশনের উদ্দেশ্য দিয়ে শেষ করা হলে তা দর্শকের মস্তিষ্কে রয়ে যাবে।

Comments

comments

Related posts