Super Life Hackহেলথ 

“দীর্ঘক্ষণ উপবাস”( Intermittent Fasting) – একটি চূড়ান্ত ডায়েট পদ্ধতি

“দীর্ঘক্ষণ  উপবাস” এই শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ  হল “Intermittent Fasting”. সহজ ভাষায় বললে, দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে উপোস করা। দিনে সাধারনত আমরা তিন থেকে চার বার খেয়ে থাকি তার পরিবর্তে যদি দুই বার খেয়ে দীর্ঘ সময় উপোস করি তাহলে শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ খুব দ্রুত কাটে, এটাই এই ডায়েটের মূলকথা। এই ডায়েট পদ্ধতি খুব অল্প সময়ে অনেক বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি রিসার্চে দেখা গিয়েছে ২০১৬ তে Intermittent Fasting এই কিওয়ার্ডটি ২৪৬.০০০ মিলিয়ন বার শুধুমাত্র গুগলেই সার্চ করা হয়েছে। পুষ্টি বিজ্ঞানীরাও এই ডায়েট পদ্ধতিকে অনেক পছন্দ করেছেন। নিম্নে Intermittent Fasting বিস্তারিত কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে যার ফলে আপনি খুব সহজেই এই ডায়েটি অনুসরণ করতে পারবেন।

Intermittent Fasting কি?

এটি একটি ডায়েট প্ল্যান যেখানে একনাগাড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা না খেয়ে উপোস করতে হয়। উপোসের সময় যত বেশী হবে তত দ্রুত এবং ভাল ফলাফল আসবে। এই ১২-১৬ ঘণ্টা আপনি চাইলে মাঝে চা,কফি, ফল বা সবজি ইত্যাদি খেতে পারেন। সর্ব উত্তম সময় হল সন্ধ্যা ৮টায় রাতের খাবার খেয়ে পরের দিন বেলা ১২টায় দুপুরের এবং সকালের খাবার একসাথে খাওয়া।এতে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

Intermittent Fasting ডায়েট শুরুর পূর্ব পরিকল্পনা

            এই ডায়েটি অনুসরণ করা খুবই সহজ। আপনাকে শুধুমাত্র যেটি করতে হবে সেটি হল আপনার সুবিধা মত একটি সময় বেছে নেয়া উপোসের জন্য।  প্রথম দিকে ১২ ঘণ্টা সময় ধরে চেষ্টা করা ভাল এতে শরীরে অতিরিক্ত চাপ পরবে না। প্রথম ২-৩ সপ্তাহ এভাবে ১২ঘণ্টা করে করে অভ্যাস করে নিলে পরবর্তীতে অধিক সময় উপোস করা সহজ হবে।

Intermittent Fasting সহজ করার টিপস

  • উপোসের মাঝে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। না হলে ডিহাইড্রেশেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • যদি সম্ভব হয় সকাল এবং দুপুরে ক্যাফেইন (যেমনঃ চা, কফি ইত্যাদি) খেতে হবে। ক্যাফেইন আপনার শরীরে শক্তি যোগাবে এবং মস্তিষ্ককে কর্ম খম রাখবে। অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি দিয়ে চা, কফি না খাওয়াই ভাল।
  • আরটিফিসিয়াল ফ্লেবার যুক্ত পানীয় (যেমনঃ কোক,ফ্লেবারড জুস ইত্যাদি) পান না করা। একটি রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে, এই ধরনের পানীয় পান করলে ক্ষুদা বাড়ে।
  • উপোসের পরের প্রথমে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করা যাবে না। যতটুকু আপনি সাধারণত খেয়ে থাকেন ঠিক ততটুকুই খাওয়া উচিৎ। এতে আপনার নিজের কাছে নিজেকে হালকা অনুভুত হবে এবং ডায়েটের ফলাফল দ্রুত পাবেন।
  • অতিরিক্ত শর্করা এবং চিনি যুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে। শর্করার পরিবর্তে আমিষ জাতীয় ( যেমনঃ মাছ, মাংস ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে। এতে শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমবে না এবং শক্তিও বাড়বে। প্রতিদিন খাবারের সাথে ফল এবং সবজি রাখা আরও কার্যকারী ফলাফল আনে।Intermittent Fasting  কিভাবে ওজন কমাবে?এই পদ্ধতি ওজন কমাতে অনেক সাহায্য করে। আপনি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে আপনার শরীরে যে অতিরিক্ত মেদ আছে তা ভেঙ্গে শক্তিতে পরিণত হয়। নিয়মিত ৩-৪ বেলা খেলে যা হয় ,আপনি যেই খাবারই গ্রহন করেন সেগুলোই আপনার শক্তির যোগান দেয়। কিন্তু যখন আপনি এই ডায়েট প্ল্যানে থাকবেন তখন পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে শরীর আপনার অতিরিক্ত মেদকে শক্তিতে পরিণত করবে। এতে আপনার ওজন কমবে।

    এই ডায়েট প্ল্যানে থাকাকালীন কি ব্যায়াম করা যাবে?

    এই ডায়েট প্ল্যানে থাকাকালীন সময় অবশ্যই ব্যায়াম করা যাবে। বরং সঠিক ভাবে ব্যায়াম করলে এই ডায়েট আরও দ্রুত কাজ করবে। আপনি চাইলে বাসায় কিংবা জিমেও ব্যায়াম করতে পারেন। এতে ওজন কমার হার বাড়বে।

    এই ডায়েট প্ল্যানটি কি নিরাপদ?

    আপনি যদি গর্ভবতী বা মেডিকেশানে না থেকে থাকেন, স্বাস্থ্যবান হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই উপোস আপনার জন্য নিরাপদ এবং উপকারি।

    এই ডায়েট প্ল্যান বা উপোস অবশ্যই অনেক উপকারি কিন্তু তার পরেও কোন ডায়েট বা উপোস বা ব্যায়াম চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না নেয়াই উত্তম।

Comments

comments

Related posts