Super Life Hackপ্রযুক্তি 

আপনি জানেন কি ? অ্যানিমেশনের পেছনের রয়েছে অনেক লুকোনো রহস্য!

অ্যানিমেশনের (animation) কে যদি একটু ভেঙ্গে লেখা যায় তবে তা হয় অ্যানিমেটেড মোশন (animated motion). তার মানে খুবই সহজ, স্টিল ইমেজে মোশনের ইলিউশন তৈরি করা। অ্যানিমেশন এই যুগের কোনও প্রযুক্তি নয়। হ্যাঁ, সময়ের সাথে সাথে এই প্রযুক্তির অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু  এর প্রথম সূত্রপাত হয় ১৮৭৭ সালে। ১৮৭৭ সালে যে অ্যানিমেশন ছিল তার সাথে ২০১৮ সালের আনিমেশনের অনেক পার্থক্য আছে। অ্যানিমেশনের এই এত বছরের পরিবর্তনের উপরে ভিত্তি করে অ্যানিমেশন পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশন হল অ্যানিমেশনের সর্বপ্রথম রুপ। এই অ্যানিমেশনকে অনেকেই  2D অ্যানিমেশন বলে থাকে কিন্তু আসলে এটি 2D অ্যানিমেশন থেকে অনেক আলাদা। ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশনে অ্যানিমেটরকে প্রতিটি ফ্রেম আঁকতে হয় যেন সাবজেক্টের মুভমেন্ট বোঝানো যায়। ১ সেকেন্ডে ২৪টি ফ্রেম থাকে কিন্তু ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশনে ১২টি ফ্রেমে কাজ করা হয়। অর্থাৎ সাবজেক্টের মুভমেন্ট প্রতি ২ ফ্রেম পর পর পরিবর্তন হয়। আগে ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশনের জন্য লাইট যুক্ত কিছু বোর্ড ব্যবহার করা হত। এই বোর্ডগুলো অ্যানিমেটরকে তার আগের ছবির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ছবি আঁকতে সাহায্য করত। এই পদ্ধতিকে অনিওন স্কিনিং (onion skinning) বলা হয়।

2D অ্যানিমেশন হল ভেক্টর বেসড অ্যানিমেশন। এই অ্যানিমেশন ফ্লাশের সাহায্যে করা হত। এই অ্যানিমেশন স্টাইলটি গত শতকে অধিক জনপ্রিয়তা পায়। এই স্টাইলের জনপ্রিয়তার কারণ হল ফ্ল্যাশ যেটা 2D অ্যানিমেশনে ব্যবহার করা হয় তা সহজে পাওয়া যায় এবং মূল্য বেশ কম। তাছাড়া ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশনে আঁকার দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু 2D অ্যানিমেশনে তা জরুরী না। যেখানে ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশনে অ্যানিমেটরকে প্রতিটি ফ্রেম আঁকতে হতো সেখানে 2D অ্যানিমেশনে  শুধু মাত্র “ আফটার ইফেক্ট ( After effect)” দিয়ে খুবই সহজে অ্যানিমেশন তৈরি করা যাই। তাই অ্যানিমেশনের এই ফর্মটি নিয়ে অনেকেই কাজ করতে শুরু করে ছিল।

3D  অ্যানিমেশন বা কম্পিউটার অ্যানিমেশন, বর্তমানে এখন একে শুধু অ্যানিমেশনই বলা হয়। 3D  অ্যানিমেশন অনেকটা পুতুল খেলার মত। এই অ্যানিমেশনে একটি চরিত্র তৈরি করে প্রতিটি অংশের মুভমেন্ট সাজানো হয়। এর আগের ফর্মগুলোতে সাবজেক্টের যে অংশ নিয়ে কাজ করা হতো ঠিক ঐ অংশই আঁকা হতো এবং কাজ করা হতো। কিন্তু 3D  অ্যানিমেশনে সম্পূর্ণ সাবজেক্ট তৈরি করতে হয় এবং সেই সাবজেক্টের যে অংশ নিয়েই কাজ হোক না কেনো সম্পূর্ণ সাবজেক্ট সবসময় দৃশ্যমান থাকে। যার ফলে সম্পূর্ণ সাবজেক্টের দিকে অ্যানিমেটরের খেয়াল রাখতে হয়।

মোশন গ্রাফিক্স (Motion graphics) কোনো ধরনের গল্পে বা সাবজেক্ট তৈরিতে ব্যবহার হয় না। এটি সাধারণত প্রমোশনাল এডভারটিসের টেক্সট এবং গ্রাফিক্স মুবমেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়।

স্টপ মোশন (Stop motion ) অ্যানিমেশনে যেকোনো কিছুর ছবি তুলে তারপরে সাবজেক্টকে তার আগের জায়গা থেকে একটু সরিয়ে আবার ছবি তোলা হয়। এরপরে সব ছবি একসাথে প্লে করলে একটি মুভমেন্ট ইলিউশন তৈরি হয়। এটাই স্টপ মোশন।

যুগে যুগে অ্যানিমেশনের পদ্ধতি পরিবর্তন হচ্ছে তাই সবসময় যে অ্যানিমেশন এই পাঁচ প্রকারেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে অ্যানিমেশনেরও নতুন নতুন পদ্ধতি , মাত্রা যুক্ত হবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।

Comments

comments

Related posts